AK Khan & Company Ltd ‍Startup Story এ কে খান গ্রুপের স্টার্টআপ

 ৫০ বছরে বাংলাদেশ নামের কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হয়ে উঠেছে চমকেভরা জাদুর বাক্স। সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশ এখন বাণিজ্যনির্ভর দেশে পরিণত। তবে যাত্রাপথটা সহজ ছিল না। বড় বড় ঝুঁকি নিয়ে অভিনব পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আমাদের সাহসী উদ্যোক্তারা। এই সাফল্যের পেছনে আরও যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ যেমন ছিলেন, আছেন নীতিনির্ধারকেরাও। মূলত অর্থনীতির এসব অগ্রনায়ক, পথরচয়িতা ও স্বপ্নদ্রষ্টারাই ৫০ বছরে বিশ্বে বাংলাদেশকে বসিয়েছেন মর্যাদার আসনে।

এ কে খান গ্রুপের কথা তো ,আমরা সবাই কম বেশি জানি ,এই গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মহৎ একজন মানুষ ,আজ আপনাদের এ কে খান গ্রুপের মালিক আবুল কাসেম খান সম্পর্কে জানাবো।

মূলত স্বাধীনতার আগে অবাঙালি ব্যবসায়ীদের ভিড়ে যে কজন বাঙালি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা তাঁদের অবস্থান শক্ত করতে পেরেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সবার ওপরেই ছিলেন আবুল কাসেম খান, যিনি এ কে খান নামে বেশি পরিচিত। ১৯০৫ সালে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ (বর্তমানে চান্দগাঁও) থানার মোহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা আবদুল লতিফ খান ছিলেন চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদের একজন সাবরেজিস্ট্রার। এ কে খানের লেখাপড়া কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে, ইংরেজি সাহিত্যে। তবে ১৯৩৪ সালে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতির মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন।

১৯৪৪ সালে তিনি পদত্যাগ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ব্যবসায় তিনি সফল হন। এরপর রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। ভারত ভাগ হলে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য হন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত শিল্প, পূর্ত, সেচ, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে তিনি পুরোপুরি ব্যবসায় মনোযোগ দেন।

এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠা ১৯৪৫ সালে, চট্টগ্রামে। ১৯৩৩ সালে আবুল কাসেম খান বিয়ে করেছিলেন বার্মায় ব্যবসারত চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল বারী চৌধুরীর কন্যাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আবদুল বারী চৌধুরী রেঙ্গুনের ব্যবসা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে আসেন। রেঙ্গুনে সম্পত্তির সিংহভাগই তিনি ফেলে এসেছিলেন। সঙ্গে এনেছিলেন মাত্র কয়েক লাখ টাকা। এই মূলধন নিয়েই ব্যবসা শুরু করেছিলেন এ কে খান।

শুরুতে নির্মাণ ঠিকাদারির ব্যবসা করতেন। দেশ ভাগের পরে চট্টগ্রামে স্থায়ী হয়ে আবুল কাশেম খান ১৯৫২ সালে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট অঞ্চলে একটি দেশলাই কারখানা এবং আড়াই লাখ টাকায় একটি প্লাইউডের কারখানা নির্মাণ করেন। তবে তাঁর তৈরি সবচেয়ে বড় কারখানা ছিল পাঁচ কোটি টাকা মূলধনের চিটাগাং টেক্সটাইল মিলস।

পরবর্তী সময়ে ১৯৫৮-১৯৬২ সাল পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী থাকার সময়ে বাঙালি উদ্যোক্তাদের জন্য পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনকে ভাগ করে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আলাদা একটি সংস্থা পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (ইপিআইডিসি) গঠন করেন। তিনি যখন মন্ত্রিত্ব শুরু করেছিলেন, তখন এ অঞ্চলে বাঙালি মালিকানাধীন জুট মিল ছিল একটি। তাঁর চেষ্টায় এই তিরিশে দাঁড়ায়। তখন এ অঞ্চলে বাঙালি মালিকানাধীন কোনো ব্যাংক ছিল না। তিনি মন্ত্রী থাকাকালে বাঙালি মালিকানায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি নিয়ে আসেন। ফলে বাঙালি মালিকানায় প্রথম ব্যাংক ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক (বর্তমানে পূবালী ব্যাংক) প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৯১ সালে আবুল কাশেম খানের মৃত্যু হয়। এ কে খানের বড় ছেলে প্রয়াত এ এম জহিরুদ্দিন খান ১৯৫৮ সালে এ কে খান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯১ সালে বাবার মৃত্যুর পরে তিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান হন। পরবর্তী সময়ে এ কে খানের দ্বিতীয় ছেলে এ কে শামসুদ্দিন খান এই শিল্পগোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন। তখন এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির দায়িত্ব নেন তাঁর ছেলে এ এম জহিরুদ্দিন খান। মুক্তিযোদ্ধা এ এম জহিরুদ্দিন খান ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা ও শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০০৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরে গ্রুপের দায়িত্ব নেন এ কে খানের আরেক সন্তান এ কে শামসুদ্দিন খান।

আবুল কাসেম খান বলেন, আমার ২১ বছর বয়সে দাদা মারা যান। তাঁর সঙ্গে অনেক গল্প হয়েছে আমার। বাবার কাছ থেকেও অনেক শুনেছি। একদিন বাবা হাতঘড়ি প্রসঙ্গে দাদাকে বললেন, ‘আপনি এখনো সিকো পরেন?’ দাদা বললেন, ‘টাইম তো দিচ্ছে।’ আমাদের গ্রুপে এখন চতুর্থ প্রজন্ম চলছে। দাদার দর্শন যত দূর সম্ভব সবাই অনুসরণ করি।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

এ কে খান এন্ড কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে নিম্নলিখিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালনা করছে:

এ কে খান ওয়াটারহেলথ (বাংলাদেশ) লিমিটেড

সিয়েট এ কে খান লিমিটেড

এ কে খান প্যানফ্রেব্রিক কোম্পানি লিমিটেড

এ কে কে- ইউনিয়ন (বাংলাদেশ) লিমিটেড

কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড

বাংলার মৎস্য লিমিটেড

এ কে সি কম লিমিটেড

আন্ধারমানিক চা রাজ্য

এ কে খান জুট মিল (একেকেজেএম)

চট্টগ্রাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (সিটিএম)

এ কে খান রাবার বাগান

এ কে খান প্লাইউড ফ্যাক্টরি

এ কে খান ম্যাচ ফ্যাক্টরী

এ কে খান এন্ড কোম্পানি লিমিটেড সিএন্ডএফ বিভাগ

এ কে খান কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড

এ কে খান সিকিউরিটিজ লিমিটেড

এ কে খান টেলিকম লিমিটেড

ইনফোকম লিমিটেড

এ কে খান অর্থনৈতিক জোন (একেকেইজেড)

এ কে খান কন্টেইনার টার্মিনাল (একেকেসিটি)

এ কে কে লজিস্টিক ও বিতরণ লিমিটেড (একেকেএলডিএল) (প্রস্তাবিত)

নিকেতন হোটেল এন্ড রিসোর্ট

এ কে কে রিয়েল এস্টেট লিমিটেড

এ কে খান টাওয়ার

বিঃ দ্রঃ আপনারা লিখাটা পড়ার পর আপনাদের অনুভূতি অথবা লিখা নিয়ে ভালো খারাপ যে কোনো মন্তব্য করলে,আমাদের কষ্ট টা সার্থক হয়।আমরা অনুপ্রাণিত হই।

References:

https://www.prothomalo.com/business/economics/%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AE-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8

https://cutt.ly/7LX12OX

https://www.facebook.com/Old.history.of.chittagong/posts/120427442958214/

Comments

Popular posts from this blog

৫০০ টাকা থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মালিক- Reliance Company Startup Story Bangla-Dhirubhai Ambani